মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

বড়ইউঠান ইউনিয়নের ইতিহাস

রাজাকান্তিদেবের রাজধানী বর্ধমানপুর আজকের বড়উঠান

 

চট্টগ্রামে আবিস্কৃত কান্তিদেবের তাম্রলিপিতে লেখা যায় যে,দক্ষিন-পূর্ব বাংলাদেশে কয়েকজন বৌদ্ধ নরপতি রাজত্ব করতেন। এই তাম্রলিপি দেয়াঙপরগণায় বড়উঠান গ্রামের নিকটবর্তী এলাকা থেকে পাওয়া যায়।তাম্রলিপিখানি অসমপূর্ণ,কিন্তু প্রাপ্ত অংশে তিনজনের নাম পাওয়া যায়,ভদ্র দত্ত-তার ছেলে ধন দত্ত এবং তার ছেলে কান্তি দেব।লিপিতে কান্তিদেবকে পূর্ণ রাজকীয় মর্যাদাদেওয়া হয়েছে।কিন্তু তাঁর পিতা ও পিতামহকে শুধু শৌর্য বীর্য এবং ধর্ম  পরায়ন তার জন্য প্রশংসা করা হয়েছে।দেবের মাতা বিন্দুবর্তীকে এ কজন বড়্ রাজার কন্যা রূপে অভিহিত করা হয়েছে।এতে ড.রমেশ চন্দ্র মজুমদার মনে করেন যে কান্তিদেব হয় তাঁর  মাতামহের নিকট থেকে রাজ্যভারলাভ করেন বা নিজ শক্তিতে রাজ্য গঠন করেন।

কান্তি দেবের লিপিখানি বর্ধমানপুর শহর থেকে জারি করা হয়। এই বর্ধমানপুরকে রমেশ মজুমদার প্রমুখ  পন্ডিত পশ্চিমবঙ্গের   বিখ্যাত শহর বর্ধমানের সঙ্গে অভিন্ন মনে করেন্তিনি মনে করেন।তিনি মনে করেন  যে চট্টগ্রাম থেকে সারা পূর্ব-দক্ষিন-পশ্চিম বাংলা বর্ধমান পর্যন্ত কান্তিদেবের অধীনে ছিল।কিন্তু আদৌ বিশ্বাসযোগ্যবলে মনে হয়না।কারণ কান্তিদেবের শিলালিপি আবিস্কৃতহয়দেয়াঙ-এর বড়উঠান থেকে।

কোথায় বড়উঠান আর কোথায় বর্ধমান ।শিলালিপিটি –এত নদনদী পাহাড়-পর্বত পার হয়ে বর্ধমান থেকে বড়উঠানে আসার প্রশ্নই আসেনা।  চট্টগ্রামের ইতিহাসের গবেষক ড. সুনীতি ভূষণ কানুনগো বলেন যে,খ্যাতনামা  চৈনিক পরিব্রাজক ইউ-হে বর্ণিত সিংহল থেকে সমুদ্র পথে ত্রিশ দিনের পথ ও নালন্দা থেকে এক যোজন(৮০০শত মাইল)দূরবরর্তি মেঘনা নদীর পূর্ব অববাহিকায় প্রাচিন হরিকেল রাজ্য  অবস্তিত ছিল । এই রাজ্যের সমুদ্র নিকটবর্তী রাজধানী বর্ধমানপুর হলো দেয়াঙএর ‘বড় উঠান’-নালন্দার সন্নিকটবর্তী পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান নয়।অশিক্ষিত লোকমুখে  বর্ধমান বিকৃত হয়ে ‘বড়উঠান’হয়েছ।(বাংলাদেশ ইতিহাস সমিতি পত্রিকা,৭ম-৮ম সংখ্যা ,১৩৮৫-৮৬বাং)।তাই আধুনিক পন্ডিতদের কেউ কেউ মনে করেন যে,বর্ধমানপুর দেয়াঙরাজ্যের বড়উঠান এর সঙ্গে অভিন্ন।এখানেই ঐতিহাসিক সেই লিপিখানি আবিস্কৃত হয়।সুতরাং বড়উঠানইপ্রাচীন বর্ধমানপুর এবং এখানেই রাজাকান্তিদেবের রাজধানি ছিল বলে অনু্মিত হয়।তাম্রলিপিখানি হরিকেন মন্ডলের ভবিষ্যৎ রাজাদের  উদ্দেশ্য করে উৎকীর্ণ।হরিকেলের পরিচিতি নিয়ে নানা মুনির নানা মত।তবে অধিকাংশ পন্ডিতস্বীকার করেন যে,বাংলাদেশের দক্ষিন-পূর্ব এলাকায় নিয়ে হরিকেল রাজ্য গঠিত ছিল।চট্টগ্রাম থেকেই প্রাপ্ত লিপিখানি,বর্ধমানপুর,দেয়াঙএর-বড়উঠানের সঙ্গে অভিন্ন বলে মনে হয়এবং ধারনা করা যায়,সারা বৃহত্তম চট্টগ্রাম হরিকেলরাজ্যের অন্তভূর্ক্তছিল এবং সম্পূর্ণ এলাকারাজা কান্তিদেবের অধীনে ছিল।বড়উঠান থেকে প্রাপ্ত তাম্রলিপিতে কোনো সন ,তারিখ নেই ,কিন্তু হস্তলিপি বিচারে আধুনিক পন্ডিতেরা তাম্রলিপিতে খ্রিষ্টীয়নবম শতাব্দীর বলেমনে করেন ।সুতরাং  কান্তিদেব নবম শতকে হরিকেলের  রাজা ছিলেন, দেয়াঙইতার রাজধানী এবং বৃহত্তম চট্টগ্রাম ঐ সময় কান্তিদেবের অধীনে ছিল।কিন্তু প্রায় এক শতক পরেই বৃহত্তমচট্টগ্রাম আরাকানের অধীনে চলে যায়।এছাডা রাজা কান্তিদেবের প্রকান্ড দীঘি(দেওর দীঘি)যার পরিমান ৮৮ কানি ।দীঘিটি আজও কালের স্বাক্ষী হয়ে আছে।এছাডা ভবানী রাজার ভবানী -পুকুর নিয়াজ রাজার বাড়ী,যে বাড়ীথেকে১৯৭৫ সালে নজির আহম্মদ নামক জনৈক  ব্যক্তি মাটি খুডতে গিয়ে একটি প্রাচীন বুদ্ধমূর্তি আবিস্কার করেন। বড়উঠান সংলগ্ন দেয়াং পাহাডে বিশ্বমুরা নামক একটি পাহাড রয়েছে।কথিতআছে যে বিশমরাজা নামক এক রাজার রাজবাড়ীছিল এপাহাডে।জায়গাটিআজও  বিশ্বমুরা ও বিশমরাজার বাড়ীনামে জনশ্রুতি রয়েছে।

উক্ত এলাকার অধিকাংশ স্থানে গভীর করে মাটি খনন করা হলে প্রাচীন।কালের ধ্বংসাবশিষ্ট পাকা ইটের  প্রশস্ত  দেওয়াল  ও বুদ্ধমূর্তি  পাওয়া যায়।সে সব দেওয়ালের  ইটের মাপ দৈর্ঘ্য প্রস্থ ও পুরু  ১২ ইঞ্চি ১২× ইঞ্চি× ৩ইঞ্চি ।স্থানীয় জনসাধারন ঐ সব ইট সংগ্রহ করে  নিজেদের বাডিঘরের  অনেক কাজ  সম্পাদন করে থাকেন। বিশ্বমুডা এলাকায় প্রাপ্ত বুদ্ধমুর্তিগুলো আকারে ছোট-৬ইঞ্চি থেকে ৪ইঞ্চি লম্বা।চল্লিশ বছর আগে  আছদ আলী খাঁ পরিবারের পরলোকগত আব্দুল হক খাঁ আনুমানিক ৩ফুট×এক দেড় ফুট মাপের  একটি বড় মুর্তি প্রাপ্ত হয়েছিলেন।তখন পটিয়া থানা কেন্দ্রের বৌদ্ধারা এসে  সেটা নিয়ে যায়।উক্ত মুর্তিগুলো কালো পাথরের তৈরী। খ্রিষ্টীয় দ্বিতীয়  শতকের   মধ্যবর্তীকাল থেকে সপ্তদশ শতকের  মধ্যবর্তীকালের মধ্যে সাময়িক বিরতি ছাড়া প্রায় চিরকাল  চট্টগ্রাম আরাকান  রাজ্যভূক্ত ছিল। আরাকান আমলে চট্টগ্রাম শাসিত হতো আরাকান রাজপ্রতিনিধি বা সামন্ত রাজাদের দ্বারা ।আর আরাকানি সামন্ত রাজারা তাদের রাজপাঠ বা  রাজবাড়ি  নির্মান করাতেন পাহাড়ি এলাকায় ।বিশেষ করে  সাগর ও নদী উপকূলীয়  এই দেয়াঙরাজ্যই ছিল তাদের রাজপাঠ বা রাজবাড়ি।

নবম শতকে চট্টগ্রাম বৌদ্ধধর্ম চর্চার প্রাধান কেন্দ্র রুপে প্রতিষ্টা লাভ করে।দশম শতকে চট্টগ্রামের ‘পন্ডিত বিহার’ বিশ্ববিদ্যালয়ের  খ্যাতি বৌদ্ধজগতে ছডিয়ে পডেছিল। আধুনিক যুগের কোন কোন ঐতিহাসিক পন্ডিত মনে করেন যে,পন্ডিত বিহার বিশ্ববিদ্যালয় দেয়াঙপাহাডে অবস্তিত ছিল।এখানকার একটি  এলাকার পাকাঁ ইটের  দেওয়ালের বৃহৎ ধবংসস্তূপকে সেকালের  পন্ডিত বিহারের অবস্থান বলে তাঁরা মনে করেন।

মধ্যযুগে এই এলাকায় সমুদ্রতীরে পর্তুগীজ বণিকদের একটি বন্দর ছিল।   পর্তুগীজ ঐতিহাসিক ও ভ্রমন কারীদের গ্রন্থে যে বন্দরটির নাম ‘ডায়েঙ্গা’নামে উল্লেখিত হয়েছে,প্রাচীন হিন্দু পুঁথিপত্রে সেটিকে ‘দেবগ্রাম’ রূপেউল্লেখ দেখা যায়।দেয়াঙপাহাডের উক্ত বিশ্বমুরা এলাকায় মাটির নিচে পাকাদেয়ালের বিশমরাজার বাডিরধবংসা বশেষ ও বুদ্ধমুর্তি প্রাপ্তি থেকে ধারনা করা যায় যে,উপরোক্ত জনশ্রুতি বর্ণিত বিশমরাজা আরাকানি সামন্ত ছিলেন। সম্ভবত তাঁর সময়কাল ও  পন্ডিত বিহার বিশ্ববিদ্যালয়ের সমসাময়িক কাল খ্রিষ্টীয় দশম শতক। এ পাহাডেই হযরত আব্দুল কাদের জিলানী (রাঃ)র একটি আস্তানাও রয়েছে ।শুধু তাই নয়,’মনসা মঙ্গল’ কাব্যের ঐতিহাসিক সনকার দীঘিও এই বড়উঠান গ্রামে ।রাজা কান্তিদেবের বর্ধমানপুর থেকে আজকের বড়উঠান গ্রামের নামকরনে ঐতিহাসিক এসব স্মৃতিচিহ্ন তার যথাযথ প্রামান দেয়।

 

চট্টগ্রামের প্রসিদ্ধ জমিদার বড়উঠান মিয়া বাড়ীর প্রতিষ্টাতা রাজা শ্যামরায় ১৬৬৬ সালে বাংলার নবাব শায়েস্তা খান কর্তৃক চট্টগ্রাম বিজয়কালে প্রধান সেনাপতি বুজুর্গ উমেদ খান’র সহযোগী  সেনাধ্যক্ষ ছিলেন। যুদ্ধশেষে তিনি দেওয়ান পদে  নিযুক্তি লাভ করেন । চট্টগ্রাম বিজয়ের পর প্রথমে তিনি রাউজান বসবাস শুরু করেন।

কবি নবীন সেনের ‘আমার জীবন’ প্রথম ভাগের দ্বিতীয় পৃষ্টার বিবরণে জানা যায় ,নবীন চন্দ্র সেনের আধিপুরুষের নাম রাজা শ্যামরায়। তাঁর চার পুত্রের মধ্যে-শ্যামরায় বিশেষ খ্যাতিসম্পন্ন  ব্যক্তি ছিলেন । শ্যামরায় সর্ম্পকে একটি গল্প  এখনো প্রচলিত আছে। নবাব শায়েস্তা খাঁ  একদিন শ্যামরায়ের ক্ষমতা পরীক্ষা করার জন্য বলেন ।এক রাতের মধ্যে তিনি যদি নবাবের বাসস্তানের সামনে এক দীঘি খনন করে তাতে প্রস্ফুটিত পদ্ম দেখাতে পারেন-তবে তিনি আনন্দিত হবেন ।রাত প্রভাত হলে নবাব দেখলেন, তাঁর বাসস্তানের সম্মূখে এক বিস্তির্ণ দীঘিতে প্রস্ফুটিত পদ্মফুল ভাসছে।সেই দীঘি চট্টগ্রাম শহরের উত্তরাংশে কমলদহ নামে খ্যাত রয়েছে।

পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে তৎকালীন দেয়াঙ পরগনার বড়উঠান গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন শ্যামরায় ।রমজান মাসের কোন একদিন বুজুর্গ উমেদ খাঁ সকল দেওয়ান  ও শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদেরকে আপ্যায়নে আমত্রন জানালেন তাঁরই জয়নগরস্থ নবাবী কার্যালয়ে ।বুজুর্গ উমেদ খানের আমন্ত্রণে দেওয়ান শ্যামরায়ও যোগ দেন এ ভোজ সভায়।হেঁসেলে (পাকশালা ,রসাইঘর) বিভিন্ন  ধরনের খাবারের আয়োজনে রান্নাবান্না চলছে, বুজুর্গ উমেদ খাঁন দেওয়ান মনোহরকে সাথে নিয়ে হেঁসেল ঘুরে ঘুরে তরিতরকারির গ্রান শুকে দেখছেন।দেওয়ান শ্যামরায় ঠাট্টাচ্ছলে বুজুর্গ উমেদ খানকে বললেন , ‘গ্রাণে অর্ধভোজন’।আপনি তো রোজা রেখেছেন, কিন্তু গ্রাণে তো আপনার রোজা ভেঙে গেছে। উমেদ খান বিযয়টি আঁচ করতে পেরে বললেন,ঠিকই-তো রোজা ভেঙে গেছে ! বুজুর্গ উমেদ খান দেওয়ান মনোহরের এ যুক্তি মেনে নিলেন ।এর  কিছুদিন পর দেওয়ান শ্যামরায় তাঁর  বড়উঠান গ্রামের বাড়িতে বিশাল এক নিমন্ত্রণের আয়োজন করলেন । ঐ অনুষ্টানে  চট্টগ্রামের নবাব বুজুর্গ উমেদ খান সহ সরকারি বেসরকারি প্রচুর খান্দানি লোকদেরকে নিমন্ত্রণ করা হলো। মুসলিমদের জন্যও পৃথক গোমাংসের আয়োজন চলছে। বাবুচিরা রান্নাবান্নায় ব্যস্ত ।এ সময় নবাব বুজুর্গ উমেদ খান এসে হাজির। দেওয়ান শ্যামরায় নবাবকে  তাঁর বাড়িটি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখাচ্ছেন এবং এক পর্যায়ে নিয়ে গেলেন হেঁসেলে (পাকশালা, রসুইঘর)। রান্না কেমন হলো তা ঘ্রাণ নিয়ে দেখছেন দেওয়ান শ্যামরায় । এক পর্যায়ে রান্না করা গোমাংসের ডেকচির ঢাকনা তুলে ঘ্রাণ নিলেন। সাথে সাথে নবাব বুজুর্গ উমেদ খান টাট্টাচ্ছলে বলে উঠলেন,গরু তো আপনাদের দেবতা , আপনারা গোমাংস খেলে তো ধর্ম বলতে কিছুই থাকেনা ।এই যে আপনি গোমাংসের গ্রান নিয়েছেন ‘ঘ্রাণে তো  আপনার অর্ধভোজন’ হয়ে গেছে ! অমনি দেওয়ান শ্যামরায় পড়লেন বিপদে ।নবাব বললেন , ‘সেদিন রমজান মাসে রান্নার ঘ্রাণ নিতে গিয়ে আপনি যুক্তি দিয়ে বলেছিলেন আমার রোজা ভেঙে গেছে ।সেদিন আপনার যুক্তি  আমি মেনে নিয়েছিলাম । আজ  আপনি গোমাংসের ঘ্রাণ নিয়েছেন ।সুতরাং আজ থেকে আপনি হিন্দু ধর্মে নেই , আপনি মুসলমান হয়ে গেছেন’। দেওয়ান শ্যামরায় নবাব বুজুর্গ  উমেদ খানের যুক্তি মেনে নিলেন । নীতিবাদী দেওয়ান শ্যামরায় ঘোষণা দিলেন তিনি মুসলমান হবেন এবং তিনি পরিবারের অন্যান্যদেরকেও মুসলিম ধর্মে চলে আসার জন্য আহবান জানালেন ,কিন্তু অন্যরা কেউ তাঁর  আহবানে সাড়া দিলেন না । অবশেষে নিজেই ইসলাম  ধর্ম গ্রহন করার পর  পারিবারিকভাবে তিনি একা হয়ে গিয়েছিলেন ।আপনজনরা সবাই তাঁকে ছেড়ে পুনরায় রাউজান চলে যায় ।এরইমধ্যে দেওয়ান মনোহর আলী খান মুসলিম নারী বিয়ে করে সংসার করার প্রস্তাব রাখেন চট্টগ্রামের নবাব বুজুর্গ উমেদ খানের কাছে ।চট্টগ্রাম বিজয়ের অন্যতম যোদ্ধা দেওয়ান মনোহর আলী খানের জন্য পাত্রী খোঁজা শুরু হলো। কিন্তু সেকালে তাঁর উপযুক্ত পাত্রী পাওয়া ছিল বড়ই সংকট ।বুজুর্গ উমেদ খান এ প্রস্তাব জানালেন তাঁর পিতা বাংলার নবাব শায়েস্তা খানের কাছে ।তিনি  ভেবে চিন্তে ঠিক করলেন নওমুসলিম দেওয়ান মনোহর আলী খানের কাছে সমর্পণ করবেন নিজ কন্যা । দেওয়ান মনোহর আলী শায়েস্তা খানের প্রস্তাব সাদরে গ্রহণ করলেন । বিয়ে হয়ে গেল ।নবাব কন্যা বধূ সেজে চলে আসলেন বড়উঠানের দেওয়ান পরিবারে । নবাব কন্যা  বিয়ে করায় কন্যার ভরণপোষণের জন্য নবাব পরিবারভূক্ত চট্টগ্রামের জমিদারীর চারভাগের এক অংশ লাভ করেন দেওয়ান মনোহর   আলী খান ও নবাব কন্যা । নবাব পরিবারের মেয়ে বিয়ে করার বদৌলতে দেওয়ান  মনোহর আলী খানের ভাগে চলে আসে চট্টগ্রামের বিশাল ভূসম্পদের জমিদারি চট্টগ্রামের  দ্বিতীয় বৃহত্তর এ  জমিদার পরিবারটি ১৬৯৬ সাল থেকে বড়উঠান গ্রামে প্রজম্নের পর প্রজম্ন বসবাস করে আসছেন ।দেওয়ান মনোহর আলী খানের অধঃস্থন পুরুষদের একটি বংশ লতিকা সংরক্ষিত আছে তাঁরই বংশধরদের কাছে ।তাতে  দেখা যায়

(দেওয়ান শ্যামরায়)

দেওয়ান মনোহর আলী খান

রুস্তুম আলী

দেওয়ান হোসাইন খান

আলী মর্দন খান

আলীয়ার খান

ফাজিলখান

ইলিয়াছ খান

আমীর খান

করিম খান

আছদ আলী খান

জিন্নত আলী খান

আকরাম আলী খান

আছত আলী খান –

আনোয়ার আলী খান       -        ছালামত আলী খান

        আনোয়ার আলী খান ১।মাহাবুবআলীখান(নিঃসন্তান)                                                                                

                 ২।শের আলী খান   - আনোয়ার হোসেন খান

                                                          ।

                              ছানোয়ার আলী খান-শের আফজল খান –সাজ্জদ খান

ছালামত আলী খানের দু’স্ত্রী

প্রথম স্ত্রীর গর্বে তিন ছেলে-

১।আলী নেওয়াজ খান

২।আলী নবাব খান

৩। আলী আহম্মদ খান

দ্বিতীয় স্ত্রীর গর্বে ২ সন্তান

১।আলী আকবর খান-                                     ২।আলী আশরাফ খান

                  ।                                                          ।

শওকত আলী খাঁ-কাইয়ুম খান                                            ।

                                                                              ।

                                                                               ।

          আলী আমজাদ খান –রেজাউল করিম খান –মোশারফ হোসেন খান –আলী আজম খান

 

চট্টগ্রামের পসিদ্ধ জমিদার বড়উঠান গ্রামের দেওয়ান মনোহর আলী খান পরিবারের পরবর্তী প্রজম্নের প্রত্যেকেই প্রায় সাড়ে চারশ বছর  জমিদারি পরিচালনা করে এসেছেন সেই মোগল আমল থেকে বৃটিশ শাসনামলের শেষ সময়কাল পর্যন্ত প্রায় পৌনে চারশ বছর বিশাল এ জমিদারি পরিচালনার পাশাপাশি নানা সময়ে তাঁদের জমিদারির পরিধি চট্টগ্রাম ছেড়ে হাতিয়া ও নোয়াখালী পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করে। চট্টগ্রামের অধিকাংশ ছোট জমিদার গুলো ছিল এই জমিদার পরিবারের তালুকি জমিদার ।চৌধুরী ও তালুকদার নামে খ্যাত ছোট ছোট জমিদারগুলো নিজ নিজ এলাকার জমিদারভূক্ত ভূমির খাজনা আদায় করে তুলে দিতেন দেওয়ান মনোহর আলী খান বংশদ্ভূত জমিদারদের হাতে। প্রতি বছর পুণ্যার সময় এলাকাভূক্ত ছোট জমিদার, তালুকদার ,চৌধুরী ও প্রজাদের মেলা বসত বড়উঠানের মিয়া বাড়ি নামে খ্যাত এই জমিদার বাড়িতে ।জমিদার পরিবারের বাহন বাজকীয় পালকি  ঘোড়ার আস্তাবল,বাড়ির আঙ্গিনায় নাচখানা জলসে উঠতো,ভারতবর্ষের সেরা শিল্পী গায়ক ও বাদকদল এ পূর্ণা অনুষ্টানে অংশগ্রহন করতেন। তাছাড়া ও মাসের পর মাস সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মেতে থাকতো জমিদার বাড়ির নাচখানা ও থিয়েটার হল। আটমাইল এলাকা জুড়ে সেই বিশাল অট্টালিকা জমিদার বাড়ির চতুর্সীমানার পাহাড়ায় থাকতো পাইক পেয়াদা। জমিদার পরিবারের বিভিন্ন কাজের সহযোগিতায় কাজি,মহুরি ,সিকদার,নাপিত,ধোপা,কামার-কুমারসহ অনেক পেশাজীবি কর্মচারী বাস করতেন জমিদার বাড়ির চতুর্বেষ্টনীতে।ধর্মভীরু এই জমিদার পরিবারের ঐতিহ্যের মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম জুড়ে একাধিক ঐতিহাসিক মসজিদ,পানিয় জলের  দীঘি ,সড়ক,হাটবাজারসহ বহু জনহিতকর প্রতিষ্ঠান ।যা আজও কালের স্বাক্ষী হয়ে স্মৃতিবাহী জমিদার পরিবারের ঐতিহাসিকতাকে জানান দিয়ে যাচ্ছে। জমিদারদের বিশাল অট্টালিকা ভবনটি এখন জীর্ণশীর্ণ,বলতে গেলে বসবাসের অযোগ্য এ ভবনটি ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যাচ্ছে।

 

দেওয়ান মনোহর আলী খানের বংশধর

 

বটতলী গ্রামে হযরত শাহ মোহছেন আউলিয়ার (রাঃ) মাজারকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠিত রুস্তম হাটের প্রতিষ্ঠাতা জমিদার রুস্তম আলী খাঁ দেওয়ান মনোহর আলী খানের দ্বিতীয় পুরুষ কিংবদন্তির নায়ক মনুমিয়ার বড়বোন কালাবিবি চৌধুরানি পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত বিশাল জমিদারির অধিকারী ছিলেন ।তাঁর জমিদারি দেখভাল করার জন্য উপযুক্ত কোন পুরুষ ছিল না ।যে কারণে তিনি বড়উঠানের জমিদার নন্দন রুস্তম আলী খানকে স্বামী হিসাবে গ্রহন করার প্রস্তাব পাঠালে রুস্তম আলী খানও তাতে রাজি হন।দ্বিতীয় স্ত্রী হিসাবে কালাবিবি চৌধুরানিকে বিয়ে করেন ।বেলচুড়া গ্রামস্ত কালা বিবি চৌধুরানী বিশাল জমিদার বাড়ি আজও কালের স্বাক্ষী হিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। পৈত্রিক জমিদারি ও স্ত্রী কালাবিবি চৌধুরানি জমিদারি দেখাশুনা করতেন জমিদার   রুস্তম আলী খাঁন দ্বিতীয় স্ত্রী কালাবিবি চৌধুরানি ছিলেন নিঃ সন্তান।ধর্মভীরু রুস্তম আলী খান হযরত শাহ মোহছেন আউলিয়ার (রাঃ)মাজার কে ভক্তিভরে শ্রদ্ধা করতেন ।এবং মাজারের পরিচর্যা করতেন।ঐ মাজারকে কেন্দ্র করে রুস্তম আলী খান প্রতিষ্ঠা করেন রুস্তমহাট।মোহছেন আউলিয়া (রাঃ) এর মাজারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা রুস্তমহাট দেশ-বিদেশে বহুল আলোচিত প্রসিদ্ধ এক বাজার ।কথিত আছে যে ,শেষ বয়সে রুস্তম আলী খাঁ হযরত শাহ মোহছেন আউলিয়ার(রাঃ)এর মাজারেই প্রায় সময় কাটাতেন  ।মৃত্যুর পরে তাঁর কবর যেন মাজারের কবরস্তানে হয় তার জন্য তিনি সকলকে নসিহত করে যান। তাঁর নসিহত অনুযায়ী মাজারের পূর্ব পার্শ্বের ভূমিতে রুস্তম আলী খাঁকে দাফন করা হয় । শত শত বছর ধরে অযত্নে অবহেলায় রুস্তম আলী খানের কবরের কোন স্মৃতিচিহ্ন আজ আর নেই। মাজরের পরিধি বিস্তার ও সংস্কারের কারনে রুস্তম হাটের প্রতিষ্ঠাতা সেই ঐতিহাসিক রুস্তম আলী খানের কবরটির স্মৃতিচিহ্ন ধরে রাখা প্রয়োজনবোধ করেননি কেউ।মাজারের পূর্বপার্শ্বের বাউন্ডারী ওয়ালের বাহিরে লাগনো ভূমিতেই তিনি চিরনিদ্রায় শায়িত আছেন।

 

বড়উঠানের জমিদার বাডির সামনেই মোগল স্থাপত্যে বিরাটকায় এক মসজিদ ।নিকিটবর্তী দৌলতপুর গ্রামের ফাজিল খার হাট নামক বাজার ও মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন জমিদার ফাজিলখান ।তিনি দেওয়ান মনোহর আলীর খানের সপ্তম পুরুষ ।জমিদার বাড়ির ছেড়ে সামান্য পূর্বে গেলেই পি,এ,বি সড়কধারে তিনশত বছরের পুরনো ইলিয়াছ খান মসজিদ।দেওয়ান মনোহর আলী খানের  নবম পুরুষ ইলিয়াছ খান।জমিদার ফাজিল খানের পুত্র জমিদার ইলিয়াছ খানই এ মসজিদের প্রতিষ্ঠাতা। মসজিদের সামান্য পূর্বে মসজিস পুকুর । ইলিয়াছ খানের ছেলে আমীর খাঁ ।পিতার খুদিত পুকুরের গা ঘেঁষে তিনি খনন করান প্রকান্ড আরেক দীঘি ।দীঘিটি ‘আমীর খানের দীঘি’(বাইশ খানি)নামে পরিচিত।দীঘি ছাড়া ও তিনি বড়ঊঠান মিয়ার হাট ও বড়উঠান মিয়ার খেলার প্রতিষ্ঠাতা প্রতি বছর ৮  বৈশাখ এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।বড়উঠান মিয়ার খেলা নামে খ্যাত এই খেলাটির তৎকালে পুরো চট্টগ্রাম জুড়েই খ্যাতি ছিল।দেওয়ান মনোহর আলী খান পরবারের ১৫ তম পুরুষ জমিদার আনোয়ার আলী খান ভারতবর্ষ জড়ে বহুল-আলোচিত  একটি নাম ।তিনি বিশাল জমিদারিভূক্ত এলাকায় প্রজাদের ইবাদত বন্দেগীর সুবিধার্থে মোগল স্থাপত্যে নির্মাণ করেন একাধিক মসজিদ ও পানীয় জলের দীঘি । বরুমচড়া গ্রামে তাঁরই প্রতিষ্ঠিত আনোয়ার আলী খান মসজিদ আজও কালের স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ।এ মসজিদের স্থানীয় নাম পোট্টা মসজিদ। মসজিদের চূড়ায় বিশাল গম্বুজকে প্রজারা বড় অর্থে পোট্টা শব্দের ব্যবহারে এক সময় পোট্টা মসজিদ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।বন্দর গ্রামে কান্তির হাট জামে মসজিদ নির্মান হাটহাজারি কওমি মাদ্রাসা নির্মানে ভূমি দান ,এমনকি ইসলামী শিক্ষা কেদ্র প্রতিষ্ঠার জন্য মওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীকে দেয়াঙ পাহাড়ে এক’শ বিঘা ভূমি দান করেছিলেন জমিদার আনোয়ার আলী খান ।এই ভূমিতে ইসলামীক ইউনিভার্সিটি করার স্বপ্ন ছিল বৃটিশ বিরোধী  আন্দোলনের অন্যতম নায়ক ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা মনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর ।উল্লেখ্য যে জমিদার আনোয়ার আলী খান বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনে শরীক হতে গিয়ে বৃটিশ সরকারের রোষানলের  শিকার হন ।বৃটিশ সরকার এক আদেশে তাঁর জমিদারির বিশাল অংশ এক পরোয়ানা মূলে বাজেয়াপ্ত করেন জমিদার আনোয়ার আলী খান  আইনি লড়ায়ে জিতে পুনরায় জমিদারি পিরে পান। আনোয়ার আলী খানের পুত্র শের আলী খান তিনিই জমিদারির পরিদি চট্টগ্রাম চেড়ে হাতিয়া সন্দ্বীপ পর্যন্ত প্রসার করেন।

 

তিনি বিয়ে করেন হাতিয়ার প্রসিদ্ব জমিদার রাজা মিয়া চৌধুরী(মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী) একমাত্র কন্যা ফিরোজা খাতুন চৌধুরানীকে। নোয়াখালী নিবাসী রাজা মিয়া চৌধুরীর শ্বশুর আমানুল্লা চৌধুরী ছিলেন হাতিয়ার প্রসিদ্ব এক জমিদার। তার একমাত্র কন্যা আছমুন নেছা চৌধুরানী প্রকাশ সাহেবানী। কন্যা সাহেবানীকে নোয়াখালী নিবাসী জমিদার রাজা মিয়া চৌধুরীকে বিয়ে দেন এক শর্তে,তাকে হাতিয়ার জমিদার কন্যার পিত্রলয়ের অবস্থান করতে হবে।  শ্বশুরের ওয়াদা মতে তিনি নোয়াখালী থেকে চলে আসেন হাতিয়াস্থ কনের পৈত্রিক জমিদার বাড়িতে। সেই জমিদার পরিবারের একমাত্র কন্যা ফিরোজা খাতুন চৌধুরানীকে বিয়ে করেন বড়উঠানের জমিদার শের আলী খান। স্ত্রী মালিকানা সূত্রে শের আলী খান হাতিয়াস্থ শ্বশুর পরিবারের বিশাল জমিদারের মালিক হয়ে যান। জমিদার রাজা মিয়া চৌধুরী নিজের বিয়ের মতোই একমাত্র কন্যার বিয়েতেও শর্ত জুড়ে দেন বড়উঠানের জমিদার জামাতা শের আলী খনাকে হাতিয়ায় কনের পিত্রালয়েই থাকতে হবে এবং কনের পৈত্রিক জমিদারী দেখাশুনা করতে হবে। কিন্তু শের আলী খান কম কিসে! তিনি নিজেই তো চট্রগ্রামের প্রসিদ্ব জমিদার। চট্রগ্রামে তার পৈত্রিক জমিদারি দেখভাল করার দায়িত্ব তো তারই। বিয়ের অল্পকিছুদিন পরেই স্ত্রী নিজেই প্রস্তাব দেন তিনি স্বামীর সাথে শ্বশুর বাড়িত্র চলে যাবেন। কিন্তু জমিদার পিতা রাজা মিয়া চৌধুরী তাতে বাঁধ সাধেন। কন্যা তার অবাধ্য হয়ে স্বামীর সাথে চলে আসতে দেখে ক্ষুব্দ জমিদার পিতা কন্যা মারা গেছে প্রতীকী অর্থে কবর খুড়ে একটি কলা গাছ দাফন করেন। অথাৎ মেয়ে মারা গেছে মেয়ের লাশ দাফন করা হল। তার মুখ আর দেকবেন না। মেয়ে শ্বশুর বাড়ি বড়উঠানে চলে আসার ক্ষোভে দুঃখে রাজামিয়া চৌধুরী একাবারে বেসামাল হয়ে যান। রাজা মিয়া চৌধুরী এতই প্রবাভশালী জমিদার ছিলেন যে, একবার জাহাজে চড়ে কলকাতা যাওয়ার পথে পথিমধ্যে জাহাজের টিকেট চেকার তার কেবিন খুলে টিকেটের কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি অগ্নিমূর্তি হয়ে টিকেট চেকারকে বলেছিলেন,জানো আমি কে? বিষয়টি অপমান মনে তিনি জাহাজ কতৃপক্ষকে বললেন,কলকাতা থেকে নিজের জাহাজে চড়েই হাতিয়া যাবো। এবং তিনি তাই করলেন, কলকাতা থেকে জাহাজ কিনে সেই জাহাজে চড়ে হাতিয়া আসলেন জমিদার রাজা মিয়া চৌধুরী। তার বিশাল জমিদারির খজনা আদায়ের জন্যে অনেক ক্ষূদ্র জমিদার নিয়োজিত ছিলেন। তৎমধ্যে একজন ছিল খুবই প্রভাবশালী। খাজনা আদায়ের পুর্ণা অনুষ্ঠানে জমিদার রাজা মিয়া চৌধুরী বাড়ির প্রধান ফটকে একটি গেইট নির্মান করেন। সেই গেইট দিয়ে যে কাউকে মাথা নিচু করে ভিতর বাড়িতে ঢুকতে হবে। কিন্তু তারই নিয়োজিত প্রবাভশালী ছোট জমিদারটি ঘোড়ায় চড়ে খাজনা দিতে এসে ভিতর বাড়িতে ঘোড়া নিয়ে ঢুকতে পারেনি। তাতে তিনি অপমান বোধ করলেন। তার কয়দিন পরেই আপন গৃহে জমিদার রাজা মিয়া খুন হয়। জানা যায়,প্রভাবশালী প্রজাবৎসল দানবীর। কথিত আছে যে, তার খুনের ঘটনায় যাদেরকে সন্দেহ করা হয় কিছুদিনের মধ্যে ঐ পরিবারের সকলেই কলেরায় মরে নির্বংশ হয়ে যায়। এই জমিদার রাজা মিয়ার মৃত্যুর পর বড়উঠানের জমিদার শের আলী খান হাতিয়া নোয়াখালির বিশাল জমিদারির মালিক হয়ে যান। তিনি হলেন জমিদার দেওয়ান মনোহর আলী খান পরিবারের শেষ জমিদার। তার আমলেই জমিদারি প্রথা বিলুপ্তভ হয়ে যায়। আজও বড়উঠানের জমিদার পরিবারের জিন্নত আলী ওয়াকফা স্টেট নামে একটি ওয়াকফা স্টেটে বড়উঠান গ্রামে দিঘি পুকুর কবরস্থান সহ প্রায় সতের একর ভূমি এবং হাতিয়ার চরে আজমুন নেছা চৌধুরানী স্টেট নামে একশ একর ভূসম্পত্তি রয়েছে। হাতিয়া স্টেটে প্রায় একশ পরিবারের ভূমিহীন প্রজা বংশানুক্রমে বসবাস করে আসছে। অপরদিকে বড়উঠান গ্রামে এ পরিবারে উনিশ একর পৈত্রিক ভূমিতে দেড়শত ভূমিহীন পরিবার বংশানুক্রামে বসবাস করে আসছে। পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য রক্ষায় কোনো        প্রকারের কর ছাড়াই এসব পরিবারকে বংশানুক্রামে অনুমতি দিয়ে আসছেন বর্তমান বংশধরেরা। এছাড়াও চার একর বিশিষ্ট একাধিক ধ্বংসস্তূপ পাকা দালান বিশিষ্ট এ বাড়িতে বলতে গেলে জমিদার পরিবারের আজ কেউ থাকেন না। তারা রয়েছেন দেশ বিদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে। জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হওয়ার পর বড়উঠানের সেই ঐতিহাসিক জমিদার বাড়িতে আজ কোনো উল্লাস ঐতিহ্য ও জৌলুস নেই। শুধু দাঁড়িয়ে আছে জমিদারদের বসবাসের জীর্ণশীর্ণ বিশাল এক অট্রলিকা। বাড়ির সামনের দীঘি , মসজিদ ও চট্রগ্রামের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অনেক ঐতিহাসিক স্বৃতি।

 

 

তথ্য সূত্র চট্টগ্রামের বিভিন্ন আঞ্চলিক পত্রিকা,বিভিন্ন ইতিহাস পূস্তিকা।

 

ইতিহাস সংগ্রহে------

 

মোহাম্মদ দিদারুল আলম

 

চেয়ারম্যান

 

২নং বড়উঠান ইউনিয়ন পরিষদ